একটি প্রযোজনা আয়োজিত শারদ সাঁঝে রবীন্দ্রনাথ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ হল আজব রাজার দেশ ও চিত্রাঙ্গদা

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : পুজোর উৎসবমুখর আবহে রবীন্দ্রসৃষ্টির দুই ভিন্ন ভুবনকে এক মঞ্চে মিলিয়ে দিল ‘একটি প্রযোজনা’ আয়োজিত নাট্যসন্ধ্যা ‘শারদ সাঁঝে রবীন্দ্রনাথ’।

গত ১৬ অক্টোবর কলকাতার শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ নাট্যসন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জুতা আবিষ্কার’ অবলম্বনে তনয় মজুমদারের নাট্যরূপ ‘আজব রাজার দেশ’এবং কবিগুরুর অমর সৃষ্টি নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’।

দুটি ভিন্ন নাট্যভুবনের এই উপস্থাপনা দর্শকদের কাছে হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যার প্রথম প্রযোজনা ‘আজব রাজার দেশ-এর নির্দেশনায় ছিলেন সমাপ্তি ঘোষ। নাটকটির আবহ, আলোকভাবনা, মঞ্চপরিকল্পনা ও রূপসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন ভাস্কর পাল।

আবহ প্রক্ষেপণ করেন দিশা দাস। রূপসজ্জায় সহযোগিতা করেন টুম্পা তাঁতি ও শ্রাবন্তী হালদার। আলোক সহযোগিতায় ছিলেন গোপাল ঘোষ। নাটকটিতে হবুরাজার ভূমিকায় রাজশেখর কুণ্ডু এবং গুবুমন্ত্রীর ভূমিকায় শিবা সরদারের অভিনয় বিশেষভাবে দর্শকের নজর কাড়ে।

বিদূষকের ভূমিকায় অর্ঘ্য মণ্ডল, কাশ্মীরা বাই- তিথি নস্কর, রাজ পণ্ডিত – সুদীপ্ত মণ্ডল, রাজবণিক – সুবীর সরদার এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে শুভম শীল, জ্যোতি তাঁতি, আদিত্য তাঁতি ও রিজু মণ্ডল নিজেদের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে প্রযোজনাটিকে সমৃদ্ধ করে।

সকলেই শিশুশিল্পী হওয়া সত্ত্বেও তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়। বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে সূর্য মল্লিকের অভিনয়। কখনও সূত্রধর, কখনও মুচি—একাধিক চরিত্রে বারবার মঞ্চে এসে চরিত্রের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অভিনয় করে সে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নৃত্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’। নির্দেশনায় মহুয়া মজুমদার, মঞ্চ পরিকল্পনা ও নির্মাণ অদ্রীশ রায়, আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপণে গোপাল ঘোষ এবং নেপথ্য সহযোগিতায় ভাস্কর জানা ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।

সুরূপার ভূমিকায় সমাপ্তি ঘোষ, অর্জুনের ভূমিকায় অতিথি শিল্পী রুদ্রাভ নিয়োগী, কুরূপার ভূমিকায় সুনীতা দত্ত এবং মদনের ভূমিকায় শ্রাবন্তী হালদার অভিনয় করেন।

এছাড়া অহনা দাস, অঙ্কিতা হালদার, দিশা দাস, তিতলি চক্রবর্তী, অনুষ্কা হালদার, ঋষিকা, পায়েল, প্রীতি, সুমিত্রা দাস সহ অন্যান্য শিল্পীর নৃত্যশৈলীও দর্শকদের নজর কাড়ে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও রূপায়নে ছিলেন সমাপ্তি ঘোষ ও ভাস্কর পাল। একটি প্রযোজনার পক্ষ থেকে অতিথি নৃত্যশিল্পী রুদ্রাভ নিয়োগী, নাটককার তনয় মজুমদার, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও নির্দেশক মহুয়া মজুমদারকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

উত্তরীয়, স্মারক ও চারাগাছ প্রদানের মাধ্যমে। এরপর উপস্থিত অতিথিবৃন্দ একটি প্রযোজনা’র নতুন নাটক সমরেশ বসুর কাহিনী অবলম্বনে সুস্মেলী দত্তের লেখা “বাঘিনী”-র পোস্টার উন্মোচন করেন।

নাটকটির নির্দেশনার দায়িত্বে আছেন সমাপ্তি ঘোষ ও ভাস্কর পাল। অনুষ্ঠান শেষে ‘একটি প্রযোজনা’-র সম্পাদক ভাস্কর পাল দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পুজোর জৌলুসের মধ্যেও নাটক দেখতে শিশির মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার জন্য তিনি দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি শিশুদের নাট্যচর্চায় উৎসাহিত করা অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

পুজোর আনন্দের মধ্যেও নিয়মিত মহড়া ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে নাটক দুটিকে মঞ্চে তুলে ধরার জন্য তিনি প্রত্যেক শিল্পী ও কলাকুশলীকে ভালোবাসা জানান।

শিশুশিল্পীদের নিষ্ঠা, দলগত প্রচেষ্টা এবং রবীন্দ্রসৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে ‘শারদ সাঁঝে রবীন্দ্রনাথ’ হয়ে উঠল ‘একটি প্রযোজনা’-র এক উল্লেখযোগ্য নাট্য উদ্যোগ। আগামী ডিসেম্বর মাসে হতে চলেছে একটি প্রযোজনা’র নাট্যোৎসব “বেঙ্গল রঙ মহোৎসব”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *