পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : দৃঢ় মনোবল, অটুট আস্থা আর ঈশ্বরের প্রতি অপরিসীম ভক্তি—এই তিনের মেলবন্ধনে যে অসাধ্যকেও সাধন করা যায়, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের বৈকোলার বাসিন্দা রাম বিশ্বাস। গত ২৭ জুলাই থেকে ২৬ অক্টোবর—টানা ৮৭ দিনের দীর্ঘ পদযাত্রায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর বিখ্যাত মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির দর্শন সেরে আজ ঘরে ফিরলেন তিনি।

তাঁর এই দীর্ঘ ও দুর্গম তীর্থযাত্রার কাহিনি ইতিমধ্যেই এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।দীর্ঘ পথের ক্লান্তি, প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং যাত্রাপথের নানা অজানা চ্যালেঞ্জকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছিলেন রামবাবু। পায়ের প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল ঈশ্বরের প্রতি গভীর বিশ্বাস, মনে ছিল আরাধ্য দেবতার দর্শন লাভের একান্ত আকাঙ্ক্ষা।

অবশেষে সেই সাধনায় সফল হয়ে ঘরে ফেরা তাঁর কাছে নিছক একটি যাত্রার পরিসমাপ্তি নয়; বরং বিশ্বাস, ধৈর্য ও আত্মিক নিষ্ঠার এক স্মরণীয় অধ্যায়।রাম বিশ্বাসের এই ব্যতিক্রমী তীর্থযাত্রাকে সম্মান জানাতে তাঁর ঘরে ফেরার উপলক্ষে বাগদা রাধাবল্লভ মন্দির প্রাঙ্গণে এক আন্তরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে তাঁকে মিষ্টিমুখ করিয়ে, ফুলের মালা পরিয়ে এবং গেরুয়া রঙের উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করেন বাগদা বিজেপি মণ্ডল-১-এর সভাপতি দিবাকর তরফদার।

সেই সময় উপস্থিত ছিলেন মণ্ডলের সহ-সভাপতি আনন্দ অধিকারী, সম্পাদক অভিজিৎ সরকার-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।এই উপলক্ষে দিবাকর তরফদার বলেন, “মানুষের মধ্যে এভাবেই সনাতন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও হিন্দুত্ববোধ জাগ্রত হোক—এটাই আমাদের কাম্য।রাম বিশ্বাস আজ মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর বিখ্যাত মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির দর্শন সেরে বাগদার পবিত্র মাটিতে পা রাখলেন।

তিনি এর আগেও একইভাবে কেদারনাথ তীর্থযাত্রা করেছেন। আগামী দিনে তিনি বদ্রীনাথ যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই অদম্য মানসিকতা ও ধর্মীয় নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসনীয়।”তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সনাতন ধর্মের প্রসার ও প্রচারের বৃহত্তর স্বার্থে রাম বিশ্বাসের পাশে থেকে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন তাঁরা।

রাম বিশ্বাসের এই ৮৭ দিনের পদযাত্রা কেবল একটি দীর্ঘ পথ অতিক্রমের কাহিনি নয়; এটি একান্ত ব্যক্তিগত বিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা এবং লক্ষ্যে অবিচল থাকার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত। প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করে আরাধ্য দেবতার দর্শন লাভের এই অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।

ঈশ্বরের প্রতি গভীর আস্থা আর বুকভরা সংকল্পকে সম্বল করে রাম বিশ্বাস যেন বুঝিয়ে দিলেন—পথ যত দীর্ঘই হোক, বিশ্বাস অটুট থাকলে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলার প্রেরণা কখনও ফুরিয়ে যায় না। তাঁর আগামী বদ্রীনাথ যাত্রার স্বপ্নও একদিন বাস্তবায়িত হোক—এমনই শুভকামনা জানিয়েছেন এলাকার অনেকে।





















Leave a Reply