পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : গ্রামীণ সংস্কৃতিচর্চার প্রাণস্পন্দন যেন নতুন করে ধ্বনিত হলো হেলেঞ্চায়। উৎসাহ, উন্মাদনা এবং বিপুল দর্শক সমাগমের মধ্য দিয়ে শনিবার হেলেঞ্চার নেতাজি শতবার্ষিকী কমিউনিটি হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলো সংশপ্তক নাট্যগোষ্ঠীর উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী সপ্তম বর্ষ নাট্যোৎসব।

সন্ধ্যা নামতেই প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে নাট্যপ্রেমী মানুষের ভিড়ে; সাংস্কৃতিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট নাট্যঅভিভাবক পারুল বিশ্বাস, নাট্যব্যক্তিত্ব অভি ঘোষাল, কবি-সাহিত্যিক সাংবাদিক অলক বিশ্বাস,

কবি ও নাট্যকার বাদল কৃষ্ণ সরকার, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সাদ্দাম হোসাইন এবং সাংবাদিক অনিরুদ্ধ কীর্তনীয়া। শ্রীমতী পারুল বিশ্বাসের প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় নাট্যোৎসবের।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ সমাজে নাট্যচর্চা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই এই ধারাবাহিক উদ্যোগ সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।উৎসবের প্রথম দিনের সূচনাতেই মঞ্চস্থ হয় হেলেঞ্চা সংশপ্তক প্রযোজিত এবং সত্য মোদকের নির্দেশনায় ঋত্বিক ঘটকের দেশভাগ-প্রেক্ষিত নাটক ‘দলিল’।

দেশভাগের বেদনা, স্মৃতি ও মানবিক সংকটের আবেগঘন উপস্থাপনায় নাটকটি দর্শকদের গভীরভাবে আলোড়িত করে।এরপর মঞ্চে আসে কলকাতার উষ্ণিক দলের প্রযোজনা ‘শ্রাদ্ধশতবার্ষিকী’।

ঈশিতা মুখোপাধ্যায় রচিত ও নির্দেশিত এই নাটকে অভিনয় করেন চলচ্চিত্র অভিনেতা শুভাশিস মুখার্জি। সমকালীন সামাজিক বাস্তবতার তীক্ষ্ণ উপস্থাপনা ও অভিনয়ের শক্তিতে নাটকটি দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

প্রথম দিনের শেষ প্রযোজনা ছিল গোবরাপুর সাংবিত্তি দলের পরিবেশিত, কিশোর দপ্তর নির্দেশিত নাটক ‘সত্য সংকট’। নাটকের সামাজিক বক্তব্য এবং নাট্যরীতির বৈচিত্র্য দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১ মার্চও নাট্যপ্রেমীদের জন্য থাকছে সমান আকর্ষণ। সেদিন পরপর মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে হুগলির হরিপাল থেকে আগত ‘অন্য ভুবন’ দলের ‘খোলা জানালা’,

অশোকনগরের ‘অভিযাত্রী’ দলের ‘গুণধর’ এবং ঐকতান বাগদা ব্লকের প্রযোজনা, সত্য মোদক রচিত ও নির্দেশিত ‘দহনকাল’। এই তিনটি নাটকের মধ্য দিয়েই এবারের নাট্যোৎসবের পর্দা নামবে।

নাট্যোৎসবকে কেন্দ্র করে হেলেঞ্চা ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে ব্যাপক উন্মাদনা। সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাঙ্গণ ছিল প্রাণবন্ত ও মুখর।

আয়োজকদের বিশ্বাস, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ নাট্যচর্চাকে আরও শক্ত ভিত দেবে এবং আগামী দিনে সংস্কৃতির এই আলো আরও দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।

















Leave a Reply