ফেনসিংয়ের জমি অধিগ্রহণে ৪০–৫০ পরিবার গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা, বয়রা সীমান্তে বিধায়কের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে ফেনসিং তথা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে এবার উদ্বেগের ছায়া বয়রা সীমান্তবর্তী এলাকায়। প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণের ফলে বয়রা বাজার-সহ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৪০–৫০টি পরিবার গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে তাঁদের দাবিকে সামনে রেখে উদ্যোগী হলেন বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর।

বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে কার্যত ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত বয়রা শনি মন্দিরের নাটমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাগদার বিধায়ক সোমা ঠাকুর, বাগদার বিডিও অখিল মণ্ডল, বিএলআরও, বিএসএফের কমান্ডেন্ট, বিজেপির বাগদা মণ্ডল-১-এর সভাপতি দিবাকর তরফদার, সন্তোষ বিশ্বাস-সহ এলাকার অসংখ্য গ্রামবাসী।এলাকাবাসীদের বক্তব্য, অতীতে বাংলাদেশের বিগত সরকারের আমলে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

সেই অনুযায়ী বয়রার শতাধিক পরিবার জমি ছেড়ে দিয়ে পরবর্তীকালে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাকা বাড়ি, এমনকি দোতলা বাড়িও নির্মাণ করেছেন। গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিকাঠামো। রয়েছে বয়রা বাজারও।স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যদি সীমান্ত থেকে ৪৫০ ফুট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বয়রা বাজার-সহ সীমান্তবর্তী চারটি বুথের বিস্তীর্ণ জনবসতির উপর।

বহু পরিবারকে তাঁদের বসতবাড়ি ও ব্যবসার জায়গা হারাতে হতে পারে। শুধু গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কাই নয়, এর ফলে বহু পরিবার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়বেন বলে দাবি তাঁদের।সীমান্ত সুরক্ষা দেশের কাছে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কথা স্বীকার করেও গ্রামবাসীদের বক্তব্য, নিরাপত্তার স্বার্থে এমন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ তাঁদের ভিটেমাটি ও জীবিকার অবলম্বন হারান। তাই মানবিক ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিকল্প ব্যবস্থা অথবা উপযুক্ত পুনর্বাসনের পথ খুঁজে বের করার দাবি উঠেছে।বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দীর্ঘদিনের বসবাস, জমির পূর্ববর্তী অধিগ্রহণ এবং বর্তমানে নির্মিত বাড়িঘর ও বাজারের বাস্তব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টি কেবল জমি অধিগ্রহণের নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শতাধিক পরিবারের ভবিষ্যৎ, জীবিকা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা বসতভিটার অস্তিত্ব।

এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক ও প্রশাসনের স্থানীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত তুলে ধরে মানবিক, বাস্তবসম্মত এবং জনস্বার্থসুরক্ষিত সমাধান বের করার আবেদন জানিয়েছেন সীমান্তবাসীরা।সীমান্ত সুরক্ষা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখেই যাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে বয়রা সীমান্তের অসংখ্য পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *