পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : দেশাত্মবোধ, জাতীয় সংহতি এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ নাগরিকের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বার্তা নিয়ে ‘Har Ghar Tiranga ২০২৬’-এর সপ্তম দিনে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করল হেলেঞ্চা ড. বি. আর. আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের NSS Unit। কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল উত্তর বয়রা BSF ক্যাম্পে ছাত্রছাত্রী ও সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের সরাসরি মতবিনিময়।

দিনের শুরুতে কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর NSS Unit-এর সদস্যরা উত্তর বয়রা BSF ক্যাম্পে পৌঁছন। সেখানে ক্যাম্প ইন-চার্জ-সহ BSF-এর জওয়ানদের উপস্থিতিতে মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জওয়ানদের সংবর্ধনা এবং দেশের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কলেজের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন NSS Programme Officer কৌশিক সাউ এবং শিক্ষাকর্মী আশুতোষ মণ্ডল, উজ্জ্বল দাস ও সৌরভ বাকচি-সহ অন্যান্যরা। অন্যদিকে, BSF ক্যাম্পে উপস্থিত জওয়ানদের উৎসাহ ও আন্তরিকতায় গোটা অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে NSS স্বেচ্ছাসেবকদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও নাটক উপস্থিত সকলের মধ্যে তৈরি করে গভীর জাতীয়তাবোধের আবহ। সীমান্তে দেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও উঠে আসে বিভিন্ন পরিবেশনায়।

তবে দিনের কর্মসূচির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব ছিল ‘BSF–Students Interaction Session’। এই পর্বে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে BSF জওয়ানদের সরাসরি মতবিনিময় হয়। সীমান্ত সুরক্ষা, জাতীয় দায়িত্ব, দেশপ্রেম এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে হয় প্রাণবন্ত আলোচনা। জওয়ানদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাত্রছাত্রীদের কাছে সীমান্তরক্ষার দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে নতুন উপলব্ধির সুযোগ করে দেয়।

আয়োজকদের বক্তব্য, ‘Har Ghar Tiranga’ শুধুমাত্র ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি নয়; এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনাকে সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে BSF ও সাধারণ নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্যের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ।

সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের এই আন্তরিক সংযোগ তাই নিছক একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাতীয় পতাকার ছায়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সেতু—যার মূল সুর একটাই, দেশ সবার আগে, দেশই সবার গর্ব।





















Leave a Reply