মায়ের স্মৃতি রক্ষায় পায়রাডাঙ্গায় মননচর্চা

নিজস্ব সংবাদদাতা: পুত্রের উদ্যোগে মায়ের স্মৃতিকে সমাজের বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াসের সাক্ষী থাকল নদিয়ার পায়রাডাঙ্গা। প্রয়াত সরস্বতী রায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গতকাল পায়রাডাঙ্গা শুভ মিলনে অনুষ্ঠিত হল ‘সরস্বতী রায় স্মৃতি স্মরণোৎসব’।

সংগীত ও মননশীল আলোচনায় সমৃদ্ধ এই অনুষ্ঠানে সরস্বতী রায় স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন রবীন্দ্র-গবেষক ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘ভারতীয় আধ্যাত্মিক সাধনা ও রবীন্দ্রনাথ’। বক্তব্যে তিনি ভারতীয় আধ্যাত্মিক সাধনার ধারার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শন ও ভাবনার গভীর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন।

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কল্যাণকুমার সরকার এবং ড. সুজিতকুমার বিশ্বাস। ড. কল্যাণকুমার সরকারের বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘রবীন্দ্রসাহিত্যে নারী’। তিনি রবীন্দ্রসাহিত্যে নারীর বহুমাত্রিক উপস্থিতি, স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার বিষয়টিকে বিশেষভাবে উপস্থাপিত করেন। অন্যদিকে, ড. সুজিতকুমার বিশ্বাস ‘ধর্মচিন্তায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনায় দুই কবির ধর্মভাবনা, মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন ভারতী কর্মকার। তাঁর সুমধুর কণ্ঠের উপস্থাপনা অনুষ্ঠানের আবহকে আরও স্নিগ্ধ করে তোলে। ভক্তিগীতি পরিবেশন করেন দীপান্বিতা দাস। তাঁর পরিবেশনাও উপস্থিত শ্রোতাদের প্রশংসা অর্জন করে।

এদিন ‘সরস্বতী রায় স্মৃতি স্মরণিকা’ নামে স্মৃতিচারণা এবং কবিতায় সমৃদ্ধ একটি স্মরণিকাও প্রকাশিত হয়। এই পর্বটি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কবিতা প্রয়াসের সম্পাদিকা শিবানী ভট্টাচার্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং খোলা চিঠির সম্পাদক তারক দেবনাথের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে।

এই ত্রয়োদশ বার্ষিক সরস্বতী রায় স্মৃতি স্মরণোৎসবের উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক মিহিরকুমার রায়।

বক্তৃতা, সংগীত ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানটি শুধু এক সন্তানের পক্ষ থেকে মাকে স্মরণ করার পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছিল মনন, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অর্থবহ মিলনমঞ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *