পারফেক্ট টাইম নিউজ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড এ জনসমুদ্রের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা রাজ্যজুড়ে ছিল উৎসাহ, আবেগ এবং নতুন প্রত্যাশার আবহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দিনটি শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক যুগান্তকারী মোড়ের প্রতীক হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে পরিণত হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এদিন শপথ নেন নবগঠিত মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনীয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বার্তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় শপথ মঞ্চ থেকেই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্যে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাংলা আজ নতুন আশার পথে হাঁটছে।”

অন্যদিকে অমিত শাহ নতুন সরকারকে “জনতার পরিবর্তনের রায়ের প্রতিফলন” বলে অভিহিত করেন। যোগী আদিত্যনাথও বাংলার নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে পরিবর্তনই উন্নয়নের নতুন দিশা দেখায়।”

এদিন ব্রিগেডের বিস্তীর্ণ প্রান্তর যেন রূপ নিয়েছিল এক উৎসবমুখর জনসমাবেশে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা মুখর হয়ে ওঠে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও উচ্ছ্বসিত স্লোগানে।

জনতার আবেগ ও উচ্ছ্বাস স্পষ্ট করে দেয় যে, নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা কতটা গভীর। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্ত নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনার প্রতীক।

এখন রাজ্যের মানুষের চোখ নতুন সরকারের দিকে—উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতের নতুন দিশা কতটা বাস্তবে রূপ পায়, সেটাই দেখার।


















Leave a Reply