পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : স্বাধীনতা দিবসের দিন বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের মিটিং-হলে এক আশা কর্মীর মন্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হল উত্তেজনা। সরকারি কাজে পঞ্চায়েত ভবনে এসে গ্রাম সভার বৈঠক চলতে দেখে ওই আশা কর্মী উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে হুমকির সুরে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্ট সকালে সরকারের নির্ধারিত কিছু কাজের জন্য বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের মিটিং-হলে হাজির হন আশা কর্মী পলি চক্রবর্তী।

সেই সময় সেখানে গ্রাম সভার বৈঠক চলছিল। অভিযোগ, নিজের কাজের জন্য নির্ধারিত স্থানটি ব্যবহার করতে না পেরে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “সরকার আমাদের হাত-পা বেঁধে জলে ফেলে দিয়েছে।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের সরকার তাঁদের কথা ভাবেনি বলেই মানুষ সেই সরকারকে ক্ষমতায় রাখেনি। বর্তমান সরকারও যদি একইভাবে তাঁদের প্রতি উদাসীন থাকে, তাহলে আগামী দিনে তাদের পরিণতিও পূর্ববর্তী সরকারের মতো হবে—এমন মন্তব্যও তিনি করেন বলে অভিযোগ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপির মণ্ডল সভাপতি দিবাকর মণ্ডল তাঁকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আবেদন জানান। তিনি বলেন, তাঁরা বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছেন; সরকারি পরিষেবা সঠিকভাবে না পৌঁছলে তার রাজনৈতিক দায়ও তাঁদের উপরই বর্তাবে। তাই উত্তেজিত না হয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালে তিনি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতেন।অভিযোগ, এই ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের একাংশও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁদের দাবি, ওই আশা কর্মীর কথাবার্তা, ব্যবহার এবং কাজের ধরন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরবর্তীতে বিজেপি নেতৃত্বের দিবাকর মণ্ডল ও সন্তোষবাবুর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।সরকারি পরিষেবা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মীর রাজনৈতিক মন্তব্য ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ঘটনাটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় স্তরে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে, সরকারি কর্মীদের কাজের পরিবেশ, সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার অধিকার এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

এ রিপোর্ট প্রকাশের আগ পর্যন্ত আশা কর্মীদের ব্লক সুপার ভাইজার পুতুল সাহা মন্ডলের প্রতিক্রিয়া জানতে বার বার ফোন করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে আশা কর্মী পলি চক্রবর্তী ফোন করা হলে তিনি তার অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে এবং বলেন, তাঁর বক্তব্যের অপ-ব্যখ্যা করা হচ্ছে, বর্তমান সরকারই তাঁদেরকে যথাযোগ্য সন্মান দিয়েছেন। পঞ্চায়েত প্রধান এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাননি। বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইস বলেন, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ কেউ করেনি বা তিনি হাতে পাননি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।





















Leave a Reply