রানাঘাট, ৪ সেপ্টেম্বর : ইতিহাসের একটি সাহিত্যিক মুহূর্তকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সংস্কৃতির আবহে মেতে উঠল রানাঘাট। ১৮৯৪ সালে এই শহরেই কবি নবীনচন্দ্র সেনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল, সেই স্মৃতিকে সামনে রেখে আয়োজন করা হল ‘কবি মিলন উৎসব ২০২৬’। রানাঘাট মহকুমাশাসকের বাংলো প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা, গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও আলোচনায় উঠে এল দুই কবির স্মৃতি এবং রানাঘাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। উৎসবের শুরুতেই ছিল লাইভ পেইন্টিং ওয়ার্কশপ। শিল্পীর তুলিতে ক্যানভাসে ফুটে ওঠে অনুষ্ঠানের ভাবনা। পরে বন্দে মাতরম পরিবেশন, মাল্যদান ও স্বাগত পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রানাঘাটের মহকুমাশাসক মুহাম্মদ সুবুর খান, সাংসদ জগন্নাথ সরকার, বিধায়ক অসীম সরকার, অতিরিক্ত জেলাশাসক দেবজিত বসু, মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক অনুশ্রী গোস্বামী-সহ প্রশাসন ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। রানাঘাটের সঙ্গে নবীনচন্দ্র সেনের সম্পর্কও এই আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কর্মসূত্রে তিনি একসময় রানাঘাট মহকুমার শাসকের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় ১৮৯৪ সালে রানাঘাটেই তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাক্ষাৎ হয়। দুই কবির সেই সাক্ষাৎ পরবর্তীকালে এই শহরের সাহিত্য-ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে ওঠে। সেই স্মৃতিকেই সামনে রেখে আয়োজন করা হয় ‘কবি মিলন উৎসব’।

অনুষ্ঠানের আলোচনাপর্বে রবীন্দ্র গবেষক ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দুই কবির ঐতিহাসিক সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট ও সাহিত্যিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সেই সময়ের রানাঘাট এবং দুই কবির পারস্পরিক যোগাযোগের নানা দিক। সাংস্কৃতিক পর্বে চিকারি সংগীত বিদ্যালয়, নূপুর ডান্স একাডেমি, উচ্চারণ, সেঁজুতি কালচারাল অর্গানাইজেশন, নান্দনিক, একক শিল্পী অভিনব বসাক এবং বাগীশ্বরী ডান্স গ্রুপের শিল্পীদের গান, নৃত্য ও আবৃত্তির পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ। একের পর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে তৈরি হয় প্রাণবন্ত আবহ। উপস্থিত দর্শকরাও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শংসাপত্র। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইন্দ্রানী ঘোষ। প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো একটি সাহিত্যিক সাক্ষাতের স্মৃতি এবং বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই রানাঘাটে ‘কবি মিলন উৎসব ২০২৬’ বিশেষ তাৎপর্য পেল। নবীনচন্দ্র সেন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকে স্মরণ করার পাশাপাশি এই আয়োজন রানাঘাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এল। অতীতের সাহিত্য-স্মৃতিকে বর্তমানের সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত করে দিনভর উৎসবের আবহে নতুন করে ফিরে দেখা হল রানাঘাটের সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়।






















Leave a Reply