পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গৌরবকে সামনে রেখে ৯ আগস্ট বাগদার মালিপোতা অঞ্চলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হল বিরসা মুন্ডা দিবস তথা বিশ্ব আদিবাসী দিবস। আদিবাসী সমাজের ইতিহাস, সংগ্রাম, অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুললেন বাগদা বিধানসভার জনপ্রিয় বিধায়িকা সোমা ঠাকুর।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে মালিপোতা অঞ্চলে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।আদিবাসী সমাজের নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রবীণ ও তরুণ প্রজন্ম—সকলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে মিলনক্ষেত্র। বিরসা মুন্ডার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে তাঁর আত্মত্যাগ, সংগ্রামী চেতনা এবং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইকে স্মরণ করা হয়।বিরসা মুন্ডা শুধু একজন আদিবাসী নেতা নন, তিনি ভারতের আদিবাসী সমাজের আত্মমর্যাদা, অধিকার ও স্বাভিমান রক্ষার এক অনন্য প্রতীক।

তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আজও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার পথ দেখায়। সেই ঐতিহাসিক চেতনাকে সামনে রেখেই বিশ্ব আদিবাসী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়িকা সোমা ঠাকুর আদিবাসী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পাশাপাশি সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও বেশি করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আদিবাসী সমাজের মানুষের মধ্যে বিশেষ উৎসাহের সঞ্চার করে।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—উন্নয়নের মূল স্রোতে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কোনও সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাস যেন হারিয়ে না যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে বিরসা মুন্ডার সংগ্রামী জীবন ও আদর্শকে পৌঁছে দেওয়াও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

মালিপোতার এই আয়োজন তাই নিছক একটি স্মরণ অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আদিবাসী সমাজের আত্মমর্যাদা, অধিকার, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রত্যয়কে আরও সুদৃঢ় করার এক তাৎপর্যপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। বিরসা মুন্ডার সংগ্রামী আদর্শকে সামনে রেখে আগামী দিনে আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নয়নের পথ আরও সুগম হোক—এই প্রত্যাশাই প্রতিফলিত হয়েছে অনুষ্ঠানের আবহে।













Leave a Reply