জৈব সারের উপকারিতা ও সঠিক প্রয়োগে কৃষকদের সচেতনতা ব্রাহ্মণনগরে কৃষকদের নিয়ে IFFCO-র উদ্যোগ

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : কৃষিক্ষেত্রে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে জৈব সারের গুরুত্ব সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে নদিয়া জেলার ব্রাহ্মণনগর এসকেইউএস (SKUS) লিমিটেড চত্বরে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি।

কল্যাণীর IFFCO-র ফিল্ড অফিসার শ্রী অভিষেক গুইনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় কৃষকদের জৈব সারের উপকারিতা ও সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।কৃষকদের উদ্দেশে আয়োজিত আলোচনায় জৈব সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা, মাটির উর্বরতা বজায় রাখা এবং সুষম সার প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক গুণমান ও জৈবিক ভারসাম্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়েও কৃষকদের সতর্ক করা হয়।কর্মসূচিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় সঠিক মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতিতে সার প্রয়োগের উপর। কৃষিজমির মাটির প্রকৃতি, ফসলের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি, মাটির গঠন উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টিও কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয়।IFFCO-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, আধুনিক কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাই কৃষকদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ও সুষম সার ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।ব্রাহ্মণনগরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যায়। কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের চাষাবাদ সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষকদের সচেতন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকের সমৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য এবং টেকসই কৃষি—এই তিন লক্ষ্যকে সামনে রেখে সচেতনতা বৃদ্ধির এমন উদ্যোগ আগামী দিনে কৃষিক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেই আশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *