ছাত্র-ছাত্রীদের ঐতিহ্যবাহী সুতো পুতুল ও বেনি পুতুল তথা গ্লাভস পাপেট তৈরীর প্রশিক্ষণ দিল শিল্পাঞ্জলি সংস্থার পুতুল নাট্যকলার শিক্ষক-শিক্ষিকারা

পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : জহর নবোদয় বিদ্যালয়, কল্যাণী, নদীয়ার আমন্ত্রণে গত ২৪ জুলাই ২০২৬ গোবরডাঙ্গার পুতুল নাট্য সংস্থা খাটুরা শিল্পাঞ্জলি আয়োজন করেছিল পুতুল নাট্যকলার কর্মশালা। জহর নবোদয় বিদ্যালয় এর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ৮০ জন ঐতিহ্যবাহী সুতো পুতুল ও বেনি পুতুল তথা গ্লাভস পাপেট তৈরীর প্রশিক্ষণ দিল শিল্পাঞ্জলি সংস্থার পুতুল নাট্যকলার শিক্ষক-শিক্ষিকারা ঐতিহ্যবাহী সুতো পুতুল ও বেনি পুতুল তথা গ্লাভস পাপেট তৈরীর প্রশিক্ষণ দিল শিল্পাঞ্জলি সংস্থার পুতুল নাট্যকলার শিক্ষক-শিক্ষিকারা। একই সাথে নির্মিত হল কর্মশালা ভিত্তিক বেনী পুতুল প্রযোজনা ‘বন্দেমাতরম’। এই দিন সকাল দশটায় জহর নবোদয় বিদ্যালয় এর অধ্যক্ষ কাজল কুমার রূদ্র , শিক্ষক শুভেন্দু ঘোষাল, জে, এন পন্ডিত ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা এবং গুণীজনের উপস্থিতিতে ৮০ জন ছাত্রছাত্রীর সাথে পরিচয় পর্বের পর শিল্পাঞ্জলির পুতুল নাট্যকলার শিক্ষিকা সোমা মজুমদার তার স্বাগত ভাষণে পুতুল নাট্যকলার কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য বর্ণনা করেন।

ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের পুতুল নাট্যকলা সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেন তিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের পুতুল নাট্যকলা শিক্ষার ইতিবাচক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা ও করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা যদি পুতুল নাট্যকলাকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেন সে বিষয়ে ও তাদের আগ্রহী করে তোলেন তিনি । এরপর শিল্পাঞ্জলির অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় সোমা মজুমদারের তত্ত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রীদের বেনী পুতুল ও সুতো পুতুল তৈরীর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। ৮০ জন ছাত্রছাত্রী খুব সহজেই সাধারণ জিনিস ব্যবহার করে কিভাবে বেনি পুতুল ও সুতো পুতুল তৈরি করা সম্ভব তার শিক্ষা গ্রহণ করে এবং প্রত্যেকে একটি করে বেনী পুতুল ও সুতো পুতুল তৈরি করে। এক সাথে ছাত্র ছাত্রীদের প্রয়োজনার বাচিক ও সঙ্গীতের তালিম ও দেওয়া হয় এবং বেনি পুতুল প্রযোজনা ‘বন্দেমাচরম’ নির্মিত হয়।বন্দেমাতরম সঙ্গীতের দেড়শো বছর উপলক্ষে ছাত্র ছাত্রীদের দ্বারা পুতুল নাট্যের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি ‘বন্দেমাতরম ‘। বেশ কয়েকবার অনুশীলনের পরেই ছাত্র-ছাত্রীরা বেনী পুতুলের সঞ্চালনা রপ্ত করে ফেলে।

সকল ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকার উপস্থিতিতে ছাত্র ছাত্রীরা পরিবেশন করেন ফেনী পুতুল প্রযোজনা বন্দেমাতরম। প্রযোজনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পাঞ্জলির শিল্পী কনিকা দাস, দীপালি বিশ্বাস ও সঙ্গতে ছিলেন মুকুল দাস।শিল্পাঞ্জলির শিল্পীরা এরপর একে একে মঞ্চস্থ করে পুতুল নাটক চার্লি,বেনী পুতুল নাচ ও ঐতিহ্যবাহী সুতোপুতুল নাচ এবং বিভিন্ন ধরনের সমকালীন পুতুল নাটকের প্রদর্শন করেন ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে। ভারতবর্ষের নিজস্ব সংস্কৃতি পুতুল নাট্যকলার এই আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান দেখে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীরা খুবই আনন্দিত হয় এবং এই শিল্পকলা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করে। শিল্পাঞ্জলি র পুতুল নাট্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ভবিষ্যতে তাদের পুতুল নাট্যের বিষয়ে সব রকম সহযোগিতা করবার প্রতিশ্রুতি দেন । বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের পুতুল নাট্যের প্রতি উৎসাহ এবং আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *