পারফেক্ট টাইম ওয়েব ডেস্ক : পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে এবার সরব হলেন বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি তথা বিরোধী দলের সদস্য-সদস্যারা।

বাগদা মণ্ডল-১-এর সভাপতি দিবাকর তরফদারের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুষমা মণ্ডলের কাছে গ্রাম সংসদের সভায় পাঁচ দফা দাবি-সম্বলিত ডেপুটেশন জমা দেন পঞ্চায়েতের সাতজন বিরোধী সদস্য-সদস্যা।

বিরোধীদের মূল অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাওয়া হলেও তাঁরা সেই হিসাব হাতে পাননি। পঞ্চায়েতের বিভিন্ন খাতে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে এবং কীভাবে সেই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তাঁদের কাছে এখনও স্পষ্ট নয় বলেই দাবি বিরোধী সদস্যদের।

ডেপুটেশনে বিশেষভাবে দাবি তোলা হয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের নতুন কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজ শুরু করার আগে বিগত বছরের পঞ্চায়েতের সমস্ত কার্যক্রমের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে হবে।

তাঁদের বক্তব্য, নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে পুরনো প্রকল্পের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, জনসাধারণের অর্থ কোথায়, কীভাবে এবং কতটা ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব জনগণের কাছে থাকা উচিত।

বিরোধী সদস্যদের আরও অভিযোগ, বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ তছরুপের মতো গুরুতর অভিযোগ তাঁরা তুলে আসছেন।

বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ জানানো হলেও সেই অভিযোগের যথাযথ জবাব মেলেনি বলেই তাঁদের দাবি। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ই চূড়ান্তভাবে বিবেচ্য হবে।

ডেপুটেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। বিরোধীদের বক্তব্য, “এখন সরকার বদলেছে, শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ এসেছে।” তাঁদের দাবি, দল-মত নির্বিশেষে পঞ্চায়েতের অর্থের হিসাব প্রকাশ্যে এলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে।

তবে এই ডেপুটেশনের রাজনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দিকও রয়েছে। পঞ্চায়েত পরিচালনায় স্বচ্ছতা, নিরীক্ষাযোগ্য হিসাব এবং জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি, এই তিনটি বিষয়ই গণতান্ত্রিক স্থানীয় স্বশাসনের মূল ভিত্তি।

ফলে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নগুলির যথাযথ উত্তর এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশ পেলে বিতর্কের অবসান ঘটার পাশাপাশি পঞ্চায়েত ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও সুদৃঢ় হতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, পাঁচ দফা দাবি-সম্বলিত এই ডেপুটেশনের পর বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব আদৌ প্রকাশ করা হয় কি না। পঞ্চায়েতের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের এই দাবি আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।





















Leave a Reply